
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দাফনের ছয় মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য এক কিশোরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন
মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কয়েস গ্রামে কবর থেকে সাজ্জাদ আলীর লাশ উত্তোলন করা হয়। নিহত সাজ্জাদ আলী ওই গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি বিদ্যুতের পোলের ওপর কাজ করছিলেন সাজ্জাদ আলী। এ সময় সেফটি বেল্ট ছিঁড়ে পোল থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার শফিকুল ওই সময় নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন ও আশ্বস্ত করে পারিবারিকভাবে সাজ্জাদ আলীর দাফন-কাফন সম্পন্ন করেন।
পরে এ ঘটনায় নিহত সাজ্জাদ আলীর মা আজিদা বিবি বাদী হয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শফিকুলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছাত্রাজিতপুর গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে এবং তার বয়স ৬৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে রোববার সাজ্জাদ আলীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। লাশ উত্তোলনের সময় নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেল্লাল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের মা ও মামলার বাদী আজিদা বিবি বলেন, আমার ছেলে ঠিকাদারের অবহেলায় মারা গেছে। আমার ছেলের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পোলের ওঠার বেল্টসহ সকল সরঞ্জাম ছিল দুর্বল। এ কারণে বিদ্যুতের পোলের ওপর থেকে বেল্ট ছিঁড়ে নিচে পড়ে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশে নিহত ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Leave a Reply